অমূল্যর ডায়েরী: ভ্যাম্পায়ার রহস্য ( পর্ব ১)

কী ব্যাপার বলতো জয়,অমূল্য দা আজ আসতে এতো দেরী করছে? আসবে না না কী! ” নিশীথের কথা সম্পূর্ণ শেষ হবার আগেই ক্লাব ঘরের দরজা খুলে ভেজা ছাতা নিয়ে অমূল্যর প্রবেশ । ছাতাটা সে ক্লাব ঘরের এক পাশে মুড়ে রেখে হাত দিয়েই চুলের জল ঝাড়তে ঝাড়তে এসে একটা চেয়ার দখল করে বসলো। তারপর বললো ” আমি আসবো না বা আসিনি এমন একটা দিনও যায়নি বন্ধু”। সত্যিই ঠাকুরের ফুলপড়া বন্ধ হলেও অমূল্যর ক্লাবে আসা কখনোই বন্ধ হয়নি । সত্যি বলতে কি আজ যে ক্লাবের আড্ডাটা টিঁকে আছে তা অমূল্যর জন্যই, অমূল্যই তার অদ্ভূত অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে ক্লাবের ছেলেপুলেদের মনোরঞ্জন করে থাকে। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে,তার সাথে মেঘের গর্জন। এরই মধ্যে পেঁচো একটা সিগারেট অমূল্যর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো ” ওহে অমূল্য হবেনা কি একটা গল্প”। অমূল্যর আবার সিগারেট না খেলে গল্প আসে না,সে পেশায় একজন গল্প লেখক হলেও তার নিজের অভিজ্ঞতাও কিছু কম নয়।

সিগারেটটা ধরিয়ে তাতে একটা টান দিয়ে, মুখথেকে কয়েকরাশ ধোঁয়া ছেয়ে অমূল্য আরম্ভ করলো তার গল্প।

এটা যদিও গল্প নয়,আমার জীবনের সত্য কাহিনী, আমি তখন আমার কোলকাতার ডিটেক্টিভ বন্ধুর বাড়িতে থাকতাম। বন্ধুর নাম শংকর, তোমরা সকলেই তার নাম শুনে থাকবে। আমি তার জীবনী লেখার জন্যই তার সাথে ছিলাম,তার সহপাঠী হয়েই তার সাথে ঘুরে বেড়াতাম।

একদিন শংকর খুব তাড়াতাড়ি মরনিং ওয়ার্ক থেকে ফিরে এলো,আমি একটু অবাকই হলাম ব্যাপার কি সেতো এতো তাড়াতাড়ি ফেরেনা। আমি বললাম ” কী ব্যাপার হে আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এলে”। আমার কথায় সে যেন সন্ধি ফিরে পেলো,তারপর পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে আমাকে দিলো। আমি চিঠিটা মনোযোগ সহকারে পড়তে লাগলাম।

” মহাশয় শংকর বাবু , আমি আপনার নাম অনেক শুনেছি,শুনেছি আপনার সফলতার কথাও । তাই আজ আমি নিরুপায় হয়ে আপনাকে এই চিঠি লিখছি। আমি জমিদার দর্পনারায়ন চৌধুরী, মোটের উপর আমার জমিদারী বেশ ভালোভাবেই চলছিল,আমার প্রজারা বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল। কিন্তু ইদানিং এক রক্তচোষার আবির্ভাবে আমাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

To be continue…….…..

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান